ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি জুগী পুকুরের দখলযুদ্ধ
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের সরকারি খাস সম্পত্তি ‘জুগী পুকুর’ ঘিরে প্রায় দুই বছর ধরে চলছে দখল ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা।
স্থানীয় মানব উন্নয়ন মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির অভিযোগ, লিজপ্রাপ্ত এই সরকারি পুকুর হাতিয়ে নিতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধারাবাহিকভাবে ভয়ভীতি, হামলা ও মাছ নিধনের মতো অপরাধ করে যাচ্ছে।
জেলা প্রশাসন নীতিমালা অনুসারে ‘জুগী পুকুর’ স্থানীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির কাছে ইজারা দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, সমিতি নিয়মিত মাছ চাষ ও সংরক্ষণ শুরু করে। কিন্তু ইজারা শুরুর কিছুদিন পর থেকেই পার্শ্ববর্তী রুহিয়া ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পুকুরের মালিকানা দাবি করে।
সমিতির দাবি, ওই ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে বারবার পুকুরে অনধিকার প্রবেশ, জাল কেটে নেওয়া ও মাছ চুরির মতো কর্মকাণ্ড চালাতে থাকে।
২০২৫ সালের শুরুতে সমিতি নতুন করে মাছ চাষ শুরু করে। কিন্তু সংঘবদ্ধ চক্র বিষ প্রয়োগে প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ নিধন করে বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। আসামি করা হয় ৪০-৪৫ জনকে।
সম্প্রতি সমিতির সদস্যরা মাছ ধরতে গেলে অভিযুক্তরা জাল টেনে নেয় এবং মসজিদের মাইক ব্যবহার করে লোকজন ডেকে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
ঘটনার ভিডিওচিত্রে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মেলে, পাশাপাশি স্থানীয় একাধিক বাসিন্দাও মসজিদের মাইক দিয়ে লোক জড়ো করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সমবায় সমিতির সভাপতি মো. জুয়েল বলেন, “আমরা বৈধভাবে সরকারি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বারবার আমাদের মাছ নিধন করছে, পুকুর দখলের চেষ্টা করছে। এতে আমাদের জীবিকা হুমকিতে পড়েছে, সরকারের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। সরকারি সম্পত্তি দখলের চেষ্টা ফৌজদারী অপরাধ। আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
