কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলা: আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ছবি: এনডিটিভি
কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পেহেলগামে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF) নামে একটি সংগঠন, যা লস্কর-ই-তাইয়েবার ঘনিষ্ঠ অঙ্গসংগঠন হিসেবে পরিচিত।


এই হামলাটি এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ভারতে সরকারি সফরে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে এই হামলাকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


টিআরএফ তাদের বিবৃতিতে দাবি করেছে, কাশ্মীরে বহিরাগতদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ এবং আগেই এ বিষয়ে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত এবং এর পেছনে সরাসরি পাকিস্তানের মদদপুষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হাত রয়েছে।


পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত-

ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলায় অংশ নিয়েছে দুই বিদেশি জঙ্গি, যারা সেনাবাহিনীর পোশাকে ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাটি শুধুই একটি বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহ নয়, বরং পাকিস্তানের ‘গভীর রাষ্ট্র’–এর সঙ্গে সংযুক্ত একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী তৎপরতা।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, “কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর সঙ্গে কোনো বিদেশি শক্তির সম্পর্ক নেই। পাকিস্তানের উচিত নিজেদের দখলে থাকা অঞ্চল খালি করে দেওয়া।”

আরও পড়ুন-


পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া-

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই হামলার দায় অস্বীকার করে এটিকে ‘অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আন্দোলনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “এসব ঘটনার সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”


তবে বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য, যেখানে কাশ্মীরকে তিনি পাকিস্তানের ‘জাগুলার ভেইন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, তা পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। তিনি ধর্মীয় বিভেদের প্রসঙ্গ টেনে দুই দেশের ভিন্ন জাতিসত্তার কথা তুলে ধরেন।


কাশ্মীরের পর্যটন ও শান্তি বিপন্ন-

অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষক তেহমিনা রিজভীর মতে, “এই হামলার পেছনে কাশ্মীরের পর্যটনশিল্পকে ধ্বংস করার একটি সুগভীর উদ্দেশ্য রয়েছে।” সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল কে জে এস ঢিলন বলেন, “দেশে বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ সফরের সময়ে এই হামলা করে কাশ্মীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতেই এই অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।”


বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই হামলা শুধু একটি সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নয়; এটি পাকিস্তান-সমর্থিত এক ‘গভীর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’-এর প্রতিফলন। কাশ্মীরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পর্যটননির্ভর অর্থনীতিকে টার্গেট করেই এই হামলা চালানো হয়েছে।


Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url