গাজায় বাফার জোনের নামে ‘কিলিং জোন’, ইসরায়েলের গোপন মিশন ফাঁস! , 'Killing Zone' in the name of buffer zone in Gaza, Israel's secret mission leaked!
বহু আগেই 'বাফার জোন' নামের গাজায় 'কিলিং জোন' প্রতিষ্ঠার মিশন শুরু করেছিল ইসরায়েল। আর সে লক্ষ্যেই এখনও চলছে অভিযান। এরই মধ্যে উপত্যকার ৫০ শতাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে বসবাসের অযোগ্য এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে তেল আবিব।
এমন বিস্ফোরক সব তথ্য উঠে এসেছে খোদ ইসরায়েলের সাবেক সেনাদের সংগঠন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' এর প্রতিবেদনে। হাই কমান্ডের নির্দেশে গাজায় নিষ্ঠুরতার বয়ান দিয়েছেন আইডিএফ এর সাবেক সেনারা।
'বাফার জোনে ইসরাইলি ট্যাংকের ৫০০ মিটারের মধ্যে কাউকে দেখা গেলেই করা হয় গুলি, তা সে নারী বা শিশু যেই হোক। তবে সুনির্দিষ্ট বা চিহ্নিত এলাকা ধরে হয়নি এমন অভিযান, বরং পুরো সীমান্ত এলাকা ডেথ জোনে পরিণত করেছে ইসরায়েলি সেনারা। যেখানে কীটপতঙ্গের মতো হত্যা করা হয় ফিলিস্তিনিদের। গাজার বাফার জোনে ইসরায়েলি সেনাদের আচরণ যেন বর্বরতার সব সীমা লঙ্ঘন করেছে।'
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইডিএফ সদস্যদের বয়ানে রোমহর্ষক সব বর্ণনা উঠে এসেছে খোদ ইসরাইলের সাবেক সেনাদের সংগঠন 'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' এর প্রতিবেদনে।
'ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স' এর উপদেষ্টা পরিচালক জোয়েল কারমেল জানান, 'বাফার জোন তৈরির উদ্দেশ্যই ছিল সেখানে থাকা সবকিছু ধ্বংস করা। এর মধ্যে কৃষিজমি, বহু স্থাপনা ছিল। ওই এলাকায় যে কেউ প্রবেশ করুক, সন্ত্রাসী বিবেচনা করে গুলি করা হতো।'
সেনারা জানিয়েছে, ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন অভিযানের অনেক আগেই হয় এই পরিকল্পনা। গাজায় চলমান যুদ্ধের শুরু থেকে বাফার জোনের পরিধি বেড়েছে কয়েক গুণ। আগ্রাসনের শুরুর দিকেই কয়েক কিলোমিটার এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়া হয় ফিলিস্তিনিদের, ধ্বংস করা হয় সব আবাসিক স্থাপনা, শিল্প, এমনকি অন্তত ৩৫ শতাংশ কৃষিজমি।
জোয়েল কারমেল আরও বলেন, '৭ অক্টোবরের আগেই কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাফার জোন ছিল। কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে আবার হামলা শুরুর পর এর পরিধি আরও বেড়েছে। আর সেজন্য অনেক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সেনারা জানিয়েছেন, সেখানে হিরোশিমার মত ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। গাজার মানুষ যাতে কখনো স্বনির্ভর হতে না পারে তা নিশ্চিত করা হয়েছে।'
সীমান্তবর্তী এলাকা গাজাকে উত্তর-দক্ষিণে বিভক্তকারী নেতজারিম করিডোরসহ উপত্যাকার প্রায় ৫০ শতাংশ এলাকা এখন বাফার জোন হিসেবে দাবি করে ইসরায়েল। এরই মধ্যে আবার রাফা সীমান্তে মোরাক করিডোর তৈরির পরিকল্পনাও করছে তারা।
সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=_UDSJkJXI1Q
